র‌্যাংকিং – ২

র‌্যাংকিং – দ্বিতীয় ভাগ

এখন আপনাকে যা করতে হবে, তাহলো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এবং মানসম্মত ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট এর লিংক (ইনকামিং) তৈরি করতে হবে, এর ফলে সার্চ ইঞ্জিনগুলো নিকট আপনার ওয়েবসাইট এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং তারা আপনার ওয়েবসাইটকে গুরুত্ব দিবে বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করবে। এর কারণ হলো, সার্চ ইঞ্জিন যখন দেখবে, অন্যান্য মানসম্মত সাইট আপনাকে উল্লেখ করছে, তখন তারা এটাকে একটি স্বীকৃতি হিসেবে ধরে নিবে এবং আপনাকে সেই অনুযায়ী আপ্যায়ন করবে!

তাহলে সংক্ষেপে কি দাড়ালো?

১। গুরুত্বপূর্ণ কীওয়ার্ড এবং সার্চ টার্মগুলোকে আপনার ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে হবে;
২। মানসম্মত কন্টেন্ট দিয়ে সঠিক বিন্যাসের আলোকে এসব গুরুত্বপূর্ণ কীওয়ার্ড এবং সার্চ টার্মগুলোকে ফোকাস করে আপনার ওয়েবসাইটটি তৈরি করতে হবে;
৩। অন্যান্য মানসম্মত এবং গুরুত্বপূর্ণ সাইট থেকে আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য ইনকামিং লিংক নিতে হবে/তৈরি করতে হবে।
৪। কৌশল প্রয়োগ করে কিছু ইউজার বা ট্র্যাফিক তৈরি করতে হবে/ওয়েবসাইটে পাঠাতে হবে।

পূর্বে এসইও এর খুব বেশি গুরুত্ব ছিল না এবং প্রয়োজনও হতো না, কিন্তু বর্তমানের তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ অনলাইন জগতে এসইও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যে কোন ওয়েবসাইট এর অপরিহার্য অংশ। মনে রাখতে, এসইও হলো ’লড়াই’।

এই লড়াইয়ে যে বিজয়ী হয়, তার জন্য রয়েছে বেশ লোভনীয় পুরষ্কার! কারণ, এতে যদি বিজয়ী হওয়া যায়, নির্দিষ্ট সার্চ টার্ম/কীওয়ার্ড এর জন্য প্রথম সারির র‌্যাংকিং পাওয়া যায়, যা অধিক ট্র্যাফিক এর নিশ্চয়তার পাশাপাশি উচ্চ মাত্রার রিটার্ণ বা মুনাফা প্রদান করে। এর ফলে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় (একটি অতি সাধারণ সুত্র হলো – অধিক ট্র্যাফিক = অধিক বিক্রি = অধিক মুনাফা/ব্যবসা), পক্ষান্তরে যদি পিছনের সারির র‌্যাংকিং পাওয়া যায়, তাহলে ট্র্যাফিক হ্রাস পাওয়ার (এমনকি কোন ট্র্যাফিক না-ও পাওয়া যেতে পারে) পাশাপাশি আর্থিক রিটার্ণও হ্রাস পাবে, এবং আপনার ওয়েবসাইট এর কোন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হবে না।

“অধিক ট্র্যাফিক = অধিক বিক্রি = অধিক মুনাফা/ব্যবসা” এই সূত্রটির কারণেই অনলাইন মার্কেটিং/ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা মাধ্যম হয়ে উঠেছে এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন।

এসইও এর মূল ভূমিকা হলো সার্চ ইঞ্জিনগুলোকে প্রভাবিত করে তাদের রেজাল্ট পেইজে ”অর্গানিক উপায়ে, হোয়াইট হ্যাট বা সার্চ ইঞ্জিনগুলোর নিকট গ্রহণযোগ্য উপায়ে” ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেইজ এর র‌্যাংকিং বৃদ্ধি করা (প্রথম সারিতে অবস্থান করা)।

সার্চ টার্ম বা কীওয়ার্ড যতো প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ হবে, তাকে ভালভাবে র‌্যাংক করানোর জন্য পরিশ্রমের পরিমাণও ততো বেশি হবে (অর্থাৎ অধিক বিনিয়োগ, অধিক সময়)!

নির্দিষ্ট বা নির্বাচিত কিছু টার্ম বা কীওয়ার্ড এর জন্য যদি সঠিকভাবে একটি এসইও পরিকল্পনা প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ওয়েবসাইট এর র‌্যাংকিং বা অবস্থান সুসংহত হবে বা উন্নত হবে। কিন্তু যদি বø্যাক হ্যাট পদ্ধতি অনুসরণ করে সার্চ ইঞ্জিনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন বা যদি সার্চ ইঞ্জিন সেটি বুঝতে পারে, তাহলে আপনার ওয়েবসাইট এর মৃত্যু সুনিশ্চিত! যদি কেউ আপনাকে নিশ্চয়তা দেয় যে, সে আপনার ওয়েবসাইটকে প্রথম সারিতে নিয়ে আসবে, তাহলে নিশ্চিত থাকুন, সে স্পেমিং করছে বা করবে অথবা অল্প সময়ে ভাল র‌্যাংকিং এর জন্য যদি আপনি নিজেও স্প্যামিং করেন (লিংক বিল্ডিং এর মাধ্যমে), তাহলে আপনি সব কিছু-ই হারাবেন, যার অর্থ হলো ওয়েবসাইট এর মৃত্যু! স্প্যামিং এর জন্য সার্চ ইঞ্জিনগুলো আপনার ওয়েবসাইটকে তাদের সেবার জন্য ইনডেক্স বা তালিকাভুক্ত করবে না, এবং আপনার সাইটে কোন ট্র্যাফিকও পাঠাবে না। আর যদি সার্চ ইঞ্জিন থেকে ট্র্যাফিক না আসে, তাহলে ঐ ওয়েবসাইট এর কোন মুল্য নেই, এর অবস্থানের কোন পরিবর্তন হবে না।

প্রথম ভাগ পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

মন্তব্য করুন:

Scroll Up