ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে

মুলতঃ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ডিজিটাল মার্কেটিং বা ডিজিটাল বিপণন কাজ করে। যদিও এসব কৌশল সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে প্রয়োগ করা হয়, কিন্তু তাদের অভীষ্ট লক্ষ্য এক এবং অভিন্ন! ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এসব কৌশল একত্রে কাজ করে মূলত প্রাসঙ্গিক ট্র্যাফিক তৈরি এবং নির্দিষ্ট ঠিকানায় (ইউজার বা মানুষকে নির্দিষ্ট ওয়েব এড্রেসে প্রেরণ করা বা পাঠানো) প্রেরণ করার জন্য। নির্দিষ্ট ঠিকানায় এসব ট্র্যাফিক (ভিজিটর) গ্রহণ করার পর সেগুলোকে একবার (one time visitor) থেকে বারবার (returning) এবং বিশ্বস্ত (loyal) গ্রাহকে রূপান্তর করা হয়।

সুচিন্তিত এবং সঠিক কাঠামোর ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন (Well structured campaigns) একাধিক এবং ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তৈরি করা হয়।

এসইও

অনেকেই বলে থাকেন যে, এসইও হলো ডিজিটাল মার্কেটিং বা ডিজিটাল বিপণন এর ‘বাজি’র ঘোড়া’! সার্চ ইঞ্জিন এর রেজাল্ট পেইজে ওয়েবসাইট এর র‌্যাংকিং বৃদ্ধি করে এসইও ট্র্যাফিক বৃদ্ধির মাধ্যমে রিটার্ণ অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) উল্লেখযোগ পরিমাণে বৃদ্ধি করে থাকে বা করতে সহায়তা করে। এজন্য এসইও প্রফেশনালদেরকে সার্চ ইঞ্জিন সমূহের নিয়ত পরিবর্তনশীল এলগরিদম এবং আপডেট সম্বন্ধে সজাগ থেকে সেগুলোর পরিবর্তনের আলোকে তাদের এসইও ক্যাম্পেইনগুলোকে পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে সময়োপযোগি করে তুলতে হয়, যাতে সংঘটিত পরিবর্তন থেকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নেয়া যায়! সর্বোত্তম এসইও ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন এর রেজাল্ট পেইজে অর্গানিক উপায়ে ওয়েবসাইট এর র‌্যাংকিং বৃদ্ধি করা যায়, যার ফলে ওয়েবসাইট এর জন্য প্রাসঙ্গিক এবং মুল্যবান ট্র্যাফিক পাওয়ার পাশাপাশি কনভার্শন বা অভীষ্ট ফলাফল যেমন পাওয়া যায়, তেমনি ওয়েবসাইট এর পেজ র‌্যাংকও উন্নত হয় তথা বৃদ্ধি পায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন আর ডিজিটাল মার্কেটিং এর শিশু নয়, কিন্তু তারপরও এটি নতুনতর ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল। এটি খুব দ্রæত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত একটি জনপ্রিয়তম ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর কারণ হলো, এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টতা বা অংশগ্রহন (engagement) এবং রিটার্ণ অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) ট্র্যাক করা বা যাচাই করা যায় খুব সহজে! বর্তমানে অসংখ্য সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম রয়েছে এবং ব্যবসায়িক ধরণের উপর ভিত্তি করে তাদেরকে ব্যবহার করে খুব সহজে ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জন করা যেতে পারে। প্রায় সবার নিকট পরিচিত এবং জনপ্রিয় – এমন কিছু প্লাটফর্ম হলো ফেসবুক, লিংক্‌ডইন, টুইটার, গুগল প্লাস, পিন্টারেস্ট, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, মাইস্পেস, রেডিট, টাম্বলার, ব্লগস্পট, ইয়েল্‌প। একটি উন্মুক্ত প্লাটফর্ম প্রদান করে সোশ্যাল মিডিয়া ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই উন্মুক্ত প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীদেরকে কোম্পানী বা ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে যুক্ত হবার সুযোগ তৈরি করে দেয়। অন্যভাবে, এর ফলে ব্যবহারকারীগণ কোম্পানী বা ব্র্যান্ডগুলো সম্বন্ধে জানতে পারে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানী তাদের ফলোয়ারদেরকে মনিটর (নজরদারী :), মন্দ অর্থে নয়!) করার পাশাপাশি কোম্পানীর পণ্য বা সেবা সংশ্লিষ্ট সংবাদ বা অন্যকোন তথ্য বা বিশেষ ঘোষণা খুব সহজে জানিয়ে দিতে পারে।

অনলাইন প্রেস রিলিজ

অনলাইন প্রেস রিলিজ ট্র্যাডিশনাল বা সনাতন প্রেস রিলিজ এর অনুরূপ, কিন্তু এদের পরিধি বা পাঠক এর পরিমাণ বিশাল। প্রেস রিলিজ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আর্টিক্যালগুলোকে অনলাইন পাবলিকেশন্স বলা হয়। এদেরকে অনলাইন উপযোগি করে-ই তৈরি করা হয় এবং বিভিন্ন অনলাইন সার্ভিস এর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়, যেন সেগুলো যাদেরকে সম্মুখে রেখে তৈরি করা হয়েছে, তাদের নিকট উপস্থাপন করা যায় বা হয়। অন্যান্য ট্রাডিশনাল প্রেস রিপোর্ট এর অনুরূপ অনলাইন প্রেস রিলিজ বা পাবলিকেশন গুলো পেশাদার সাংবাদিক, লেখক বা সম্পাদকরা তৈরি করেন, যেন সেগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার পরিরিচতি ব্যাপক আকারে বিস্তৃত করতে সহায়ক হয়।

ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বা ডিজিটাল এডভার্টাইজিং

অনলাইনে পণ্য, সেবা বা ব্র্যান্ড প্রমোট করা কখনো-ই খুব সহজ ছিল না। যখন থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন এর মধ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং বা ডিজিটাল এডভার্টাইজিংকে অর্ন্তভুক্ত করা হলো, তখন থেকেই অনলাইনে পণ্য, সেবা বা ব্র্যান্ড প্রমোট করার সুবিধা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেল এবং দিন দিন এর জনপ্রিয়তার পাশাপাশি গুরুত্বও বৃদ্ধি পেলো।

গুগল এর এডওয়ার্ডস কীওয়ার্ড রিসার্চ এবং ডাটা ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন তৈরি করার সুবিধা প্রদান করে এবং এই প্লাটফর্মে টেক্সট, ব্যানার এবং ইমেজ ভিত্তিক বিজ্ঞাপন তৈরি ও প্রচার করার সুবিধা রয়েছে।

ফেসবুক প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন তৈরি এবং প্রচার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং আপনি কীওয়ার্ড এর পাশাপাশি বয়স, লিঙ্গ, এমন কি ইউজারদের বিশেষ আগ্রহ ভিত্তিক বিজ্ঞাপনও তৈরি ও প্রচার করার সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। এর ফলে ডিজিটাল মার্কেটারগণ সুনির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষের নিকট তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারেন!

এনালিটিক ডাটা

ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন এর জন্য আপনি যতো-ই ভিন্ন ভিন্ন টুল বা প্লাটফর্ম ব্যবহার করেন না কেন, আপনার সকল প্রচেষ্টা-ই ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হবে যদি আপনি ট্র্যাক করতে না পারেন, কোন পদ্ধতি, কোন প্লাটফর্ম, কোন ধরণের বিজ্ঞাপন আপনার জন্য কি ফলাফল বয়ে আনছে! বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের এনালিটিক টুল বা প্রোগ্রাম রয়েছে (অনেকগুলো আবার রয়েছে প্লাটফর্ম ভিত্তিক!) যাদেরকে ব্যবহার করে আপনি সকল ধরণের ক্যাম্পেইন এবং ওয়েবসাইট এর পারফরমেন্স বা ফলাফল দেখতে পাবেন, সেগুলো বিশ্লেষণ করতে পারবেন। এর ফলে ওয়েবমাস্টার, ব্যবসায়ী, ডিজিটাল মার্কেটার বা এসইও প্রফেশনালগণ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তগুলো নিয়ে পরবর্তী ব্যাখ্যা – বিশ্লেষণ এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে পারেন। তথ্য ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং এর আলোকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন এর একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য অংশ এবং ক্যাম্পেইন এর সফলতার জন্য এটি ব্যতীত আর কোন সঠিক পথ আছে বলে মনে হয় না।

পরিশেষে

একটি সফল ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন এর জন্য উপরে যেসব ডিজিটাল টুলগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো বিদ্যমান অসংখ্য টুলের কয়েকটি মাত্র! প্রতিটি ব্যবসা বা ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট বা শুধু ওয়েবসাইট – যা-ই বলি না কেন, তারা প্রত্যেকেই ইউনিক (অদ্বিতীয়, শক্তি প্রদর্শন অর্থে নয়! :)) এবং এজন্য তাদের ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইনও ইউনিক করে বা প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি করতে হবে, যেন সঠিক ব্যবহারকারীর নিকট “বার্তাটি” পৌছে দেয়া যায়।

ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন সত্যিকার অর্থে-ই কাজ করে এবং বর্তমানের চরম প্রতিযোগিতাময় এবং বর্ধনশীল বাজারে এটি (ডিজিটাল মার্কেটিং) অত্যন্ত কার্যকর।

এসইও এর মৌলিক পাঠ সম্বন্ধে জানতে এখানে ক্লিক করুন

মন্তব্য করুন:

Scroll Up